টাইফয়েড জ্বরের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

টাইফয়েড জ্বর হলো ব্যাকটেরিয়া বাহিত একটি রোগ। দ্রুত এই রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা না করানো হলে মারাত্মক ক্ষতি ঘটতে পারে। জেনে নিন টাইফয়েড জ্বরের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে।

টাইফয়েড জ্বরের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসার উপায়

জ্বরেরও আছে নানান প্রকারভেদ! যেহেতু জ্বর কোনো রোগ নয়, রোগের উপসর্গ, তাই প্রাথমিক অবস্থায় সব ধরনের জ্বরেই এক রকম লক্ষণ দেখা যায়। কোন জ্বরের লক্ষণ কী রকম, সেটা জানা থাকলে সংক্রমণের প্রথম থেকেই সতর্ক থাকা যায়।

একটু গরম পড়লেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় টাইফয়েড জ্বরের প্রকোপ বাড়ে। টাইফয়েডের জীবাণু ছড়ায় সাধারণত অনিরাপদ পানি ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের কারণে। সচেতন থাকলে এর সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব।

এই আর্টিকেলে আমরা চেষ্টা করেছি টাইফয়েড জ্বরের কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা বা প্রতিকারের মতো বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে। এতে সঠিক সময়ে আপনি টাইফয়েড শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করতে পারবেন।

টাইফয়েড জ্বর হবার কারণ কী?

টাইফয়েড মূলত একটি পানিবাহিত মারাত্মক রোগ। দুই ধরনের জীবাণুর সংক্রমণে এই জ্বর হয়ে থাকে। ১) সালমোনেলা টাইফি এবং ২) সালমোনেলা প্যারাটাইফি। সালমোনেলা টাইফির সংক্রমণে টাইফয়েড জ্বর বা এন্টেরিক ফিভার হয়। সালমোনেলা প্যারাটাইফি জীবাণুর কারণে হয় প্যারাটাইফয়েড জ্বর।

টাইফয়েড জ্বর হবার কারণ কী

প্রধানত দূষিত পানি ও খাবার গ্রহণের মাধ্যমেই এই জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি উদাসীনতার কারণেও এটি শরীরে প্রবেশ করতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির মলের মাধ্যমে এইসব জীবাণু পরিবেশে ছড়ায়। অপরিষ্কার-অস্বাস্থ্যকর খাবার কিংবা হাতের মাধ্যমেও এটি ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে। অধিকাংশ রেস্টুরেন্টেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাবার প্রস্তুত করা হয় না, ফলে সেসব খাবারের মাধ্যমেও মানুষ আক্রান্ত হয়। এছাড়াও টাইফয়েড জ্বর থেকে সুস্থ হয়ে উঠার পরও কেউ কেউ এই ব্যাকটেরিয়া বহন করেন।

টাইফয়েড জ্বর অত্যন্ত সংক্রামক। একজন সংক্রামিত ব্যক্তির মল ও প্রস্রাবের মাধ্যমে তাদের শরীর থেকে ব্যাকটেরিয়া আশেপাশের পরিবেশে ছড়াতে পারে। ( source )

টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণ ও উপসর্গগুলো কী কী?

টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণ ও উপসর্গ

সাধারণত রোগ-জীবাণু শরীরে প্রবেশের ১০ থেকে ১৪ দিন পর টাইফয়েডের লক্ষণ প্রকাশ পেতে থাকে। ১ থেকে ২ সপ্তাহ পর্যন্ত এই লক্ষণগুলো বাড়তে থাকে। ক্ষেত্র বিশেষে ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ এর স্থায়ীত্ব থাকে। জ্বর, এ রোগের প্রধান লক্ষণ। প্রথম চার-পাঁচ দিন জ্বর কখনো বাড়ে; কখনো বা কমে, তবে কোনো সময় সম্পূর্ণ ছেড়ে যায় না। সতর্ক থাকার জন্য টাইফয়েডের লক্ষণ বা উপসর্গগুলো সম্পর্কে সবারই ভালোভাবে জেনে রাখা উচিত। আসুন জেনে নিই, টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণ কী-

  • টানা জ্বর। জ্বর ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে
  • মাথাব্যথা শরীর ব্যথা
  • শারীরিক দুর্বলতা
  • ক্ষুধামন্দা
  • কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া
  • বমি
  • কফ বা কাশি প্রচণ্ড
  • পেটে ব্যথা পিঠে ও পেটে দানা দেখা দিতে পারে
  • তাপমাত্রার সাথে হৃদস্পন্দন কমতে পারে

কীভাবে টাইফয়েড জ্বর শনাক্ত করা হয়

কেবল চিকিৎসকই বলতে পারবেন, আপনি টাইফয়েডে আক্রান্ত কিনা। টাইফয়েডের লক্ষণ দেখা দিলে বা টাইফয়েড হয়েছে সন্দেহ হলে, দ্রুতই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ঘরে বসেই ভিডিও কলে এই পরামর্শ নিতে পারেন ডকটাইম অ্যাপে । যেকোনো সময়, যেকোনো মুহূর্তে ভিডিও কলের মাধ্যমে ডাক্তারকে জানাতে পারেন আপনার সমস্যার কথা। প্রাথমিক অবস্থাতেই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চললে, জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

পরীক্ষা নিরীক্ষার পরই শুধু টাইফয়েড শনাক্ত করা যায়। এজন্য ব্লাড কালচার নামক রক্ত পরীক্ষা করতে হয়। রক্তের নমুনায় স্যালমোনেলা নামক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেলে টাইফয়েড হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। এছাড়া জ্বর হওয়ার ২য় সপ্তাহে ‘উইডাল টেস্ট’ নামে একটি ননস্পেসিফিক ব্লাড টেস্ট করার মাধ্যমে টাইটার দেখে টাইফয়েড নির্ধারণ করা হয়।

টাইফয়েড জ্বরের চিকিৎসা বা প্রতিকার

পরীক্ষা করে টাইফয়েডের জীবাণু পাওয়া গেলে চিকিৎসকের পরামর্শে জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল এবং ১০ থেকে ১৪ দিনের অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হয়। অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করলে সাধারণত পাঁচ দিনের মধ্যেই রোগী সেরে উঠেন। প্রথমত মনে রাখতে হবে, চিকিৎসকের নির্দেশনা ছাড়া ঔষধ খাওয়া যাবে না এবং যতদিন তিনি অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের পরামর্শ দেবেন, ঠিক ততদিন পর্যন্তই অবশ্যই ঔষধ চালিয়ে যেতে হবে।

এ সময় শরীরে পানিস্বল্পতা দেখা দেয়, ফলে রোগীর শরীরে পর্যাপ্ত পুষ্টি এবং পানির চাহিদা পূরণ করতে প্রচুর তরল ও ক্যালরিসমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে হবে। জ্বর যদি বেশি থাকে, তবে শরীর বারবার মুছে দেওয়া ভালো।

কখন একজন ডাক্তারকে দেখাতে হবে?

জ্বর দীর্ঘদিন যাবত স্থায়ী হলে কিংবা টাইফয়েড হয়েছে সন্দেহ হলে দ্রুতই একজন চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করুন । রোগ নির্ণয়ের পর কী করতে হবে বা কী করা উচিত হবে না, তা একমাত্র চিকিৎসকই ভালো বলতে পারবেন। হালকা বা গুরুতর লক্ষণগুলি অনুভব করলে জটিলতা এড়াতে ঘরে বসেই ডকটাইম অ্যাপে ভিডিও কলের মাধ্যমে একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধে করণীয়